শিশুবেলায় এমন দিনে আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখলেই গ্রামের মানুষ বাড়ির দিকে ছুটত। ঘরের বউ-জি উঠানে ছড়িয়ে দেওয়া ফসল, লাকড়ি, কাপড়চোপড় ঘুছাতে ব্যস্ত হতো। বাবামায়ের হাকডাক শুরু হতো সন্তানের জন্য।
“কে কোথায় আছিস, জলদি ঘরে আয়। ঝড়তুফান শুরু হলো বলে।”
কিন্তু আমার মতো কতিপয় দুরন্ত অপেক্ষায় থাকতাম কখন বাতাস বইতে শুরু করবে। ঝড়তুফান শুরু হবে।
ঝড়তুফান শুরু হওয়া মাত্র ব্যাগ, ডুলা, বস্তা নিয়ে ছুটতাম আমগাছের নিচে। কার আগে কে ঘর থেকে বেরুতে পারে, কে কার থেকে বেশি আম কুড়াতে পারে, এই জাতীয় প্রতিযোগিতা ছিল আম কুড়ানোর দলে।
ঝড়ে মাথায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে, নাকি বিজলির আগুনে জ্বলে যাই, শিলাবৃষ্টি ঢিলে আহত হই; এসবের কোনোরকম তোয়াক্কা করতাম না। বরং অপার আনন্দে মাতোয়ারা থাকতাম।
এমন আবহাওয়ায় শিশুবেলার সেসব স্মৃতি উঁকি দেয় মনের জানালায়—
ধুলো ওড়া সেই বাতাস,
ঘন কালো ওই আকাশ—
সব ভয় তুচ্ছ করে,
ছুটতাম মোরা আম কুড়ানোর নেশায়,
শৈশবের সেই অমোঘ ভালোবাসায়।